সারাদেশ

আমের বহুমাত্রিক ব্যবহার বাড়ালে রপ্তানিতে আসবে নতুন সম্ভাবনা: পাবিপ্রবি উপাচার্য

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিরাপদ আম উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ এবং উন্নত বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়বে। একই সঙ্গে আমের বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘মৌসুমি ফল উৎসব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কনভেনশন হলে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

মৌসুমি ফল আম, প্রকৃতির মিষ্টি উপহার, চাঁপাইয়ের গর্ব’ শীর্ষক স্লাইড উপস্থাপনায় উপাচার্য বলেন, সরকার ২০১০ সালে আমগাছকে জাতীয় বৃক্ষ ঘোষণা করেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয় এবং হেক্টরপ্রতি ফলন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৭ গুণ। এর মধ্যে শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জেই প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, চাষিদের স্বার্থে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধুনিক হিমাগার ও ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (VHT) প্ল্যান্ট স্থাপন জরুরি। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ আরও বাড়বে।

ড. শামীম বলেন, শুধু কাঁচা বা পাকা আম বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ফ্রোজেন আম, শুকনো আম (ড্রাই ম্যাঙ্গো), ম্যাঙ্গো অয়েল, আমের চকলেট, লজেন্স, বেকারি পণ্যসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব। তিনি জানান, গবেষণার মাধ্যমে আমের আঁটির শাঁস থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

আম পরিবহনে প্রচলিত বাঁশের ঝুড়ির পরিবর্তে প্লাস্টিক ক্যারেট অথবা কাপড় ও কাগজের লাইনারযুক্ত ঝুড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে ফলের গুণগত মান বজায় থাকবে এবং রপ্তানিযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি আমকে জীবাণুমুক্ত রাখা এবং জিআই (Geographical Indication) ট্যাগিংয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এমরান হোসেন তানিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক।

এ সময় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান, ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাবিবুল্লাহ, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান মীর হুমায়ুন কবিরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

একই বিভাগের আরও খবর