নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকাশ্য টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার প্যাট্রোলিংও জোরদার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো সুযোগসন্ধানী মহল যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর, জেলা সদর, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ স্মরণস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে আগাম পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন
-
মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: বাজার থেকে ৩ কোম্পানির খাদ্যপণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
-
আবু সাঈদসহ জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে পুনরায় গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
-
আর্ন প্রকল্পে সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগ, ৯ লাখ যুব-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগবৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে মোবাইল ও ফুট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জনসমাগমস্থল, স্মৃতিস্তম্ভ ও অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে তাদের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে।
র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সম্ভাব্য বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমপির নিয়মিত সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট টিমও প্রস্তুত রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তা দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, সব মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে সাইবার প্যাট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বড় জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে এখন দৃশ্যমান নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্মরণসভা, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।