সম্প্রতি জারি করা ‘নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নিবন্ধন ও লাইসেন্স—এই দুই ধরনের অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফুটপাতে খাবার বিক্রি করলেও নিতে হবে নিবন্ধন
প্রবিধান অনুযায়ী, সাধারণ রেস্তোরাঁ, বেকারি, জুস বার, ক্যাটারিং সেবা, মিষ্টির দোকান এবং ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ খাদ্য বিক্রেতাদের নিবন্ধন নিতে হবে।
অন্যদিকে শিশুখাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, জৈবপণ্য, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেলের আমদানি ও পাইকারি ব্যবসাসহ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য খাতের জন্য কঠোর শর্তসাপেক্ষে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
নিবন্ধন ও লাইসেন্স—উভয়ের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। নিবন্ধন ফি এক হাজার টাকা। আর লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তন ও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবিধানে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিং, বিল বা ক্যাশ মেমোতে লাইসেন্স নম্বর অথবা কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হবে। বিধান লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা করলে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে নতুন এ প্রবিধানকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামালের দাবি, বর্তমানে খাদ্য ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে একাধিক অনুমোদন নিতে হয়। নতুন নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থা যুক্ত হওয়ায় ব্যবসার পরিচালন ব্যয় ও প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তিনি বিএফএসএর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটির সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের মতে, ফুটপাতের বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় সুপারশপ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বর্তমানে বিএফএসএর নেই। ফলে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
এসব উদ্বেগের বিষয়ে বিএফএসএর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট বা ফুটপাতের বিক্রেতাদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। প্রথমে বড় শিল্পভিত্তিক খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজর দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জটিলতায় পড়বে না। তবে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএফএসএর তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।