সারাদেশ

সরকারি চাকরি পেলেন অদম্য আয়েশা

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

গাইবান্ধা বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছেন আয়েশা। তার এই অর্জন এখন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অসংখ্য মানুষের কাছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আয়েশার কর্মসংস্থানের পেছনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার আন্তরিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আয়েশার জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটন আর শারীরিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তবুও তিনি হার মানেননি। দুই হাত না থাকলেও পায়ের আঙুল ব্যবহার করেই রান্নাবান্না, মোবাইল ও কম্পিউটার পরিচালনা, এমনকি ইট ভাঙার মতো কঠিন কাজও করেছেন দক্ষতার সঙ্গে।

আরও পড়ুন

শিক্ষাজীবনেও দেখিয়েছেন অসাধারণ অধ্যবসায়। পায়ের আঙুলে কলম ধরে ২০১২ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার একমাত্র স্বপ্ন ছিল নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংগ্রামী মায়ের মুখে হাসি ফোটানো।

তার জীবনসংগ্রামের গল্প বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরবর্তীতে তার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে আয়েশা এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলার ভরতখালী এলাকার গণমাধ্যমকর্মী মোস্তাফিজুর রহমান ফিলিপস বলেন, শারীরিক অক্ষমতা মানুষকে থামাতে পারে না। অদম্য ইচ্ছাশক্তি মানুষকে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, আয়েশা তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

উদয়ন মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম সোহেল বলেন, দুই হাত না থাকলেও আয়েশার একাগ্রতা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসই তাকে আজকের এই সাফল্য এনে দিয়েছে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, আয়েশার বিষয়টি জানার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসন তার খোঁজখবর রেখেছে। তিনি আয়েশার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

আয়েশার এই সাফল্য শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে দৃঢ় মনোবল, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনোই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

একই বিভাগের আরও খবর