বিতর্কের জেরে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই তাকে ডিবি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। সেই দিনটিকেই অনেকে ‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বন্ধ হওয়ার দিন হিসেবে স্মরণ করেন।
‘হারুনের ভাতের হোটেল’ বন্ধ হওয়ার দিন আজ
কীভাবে শুরু হয় ‘ভাতের হোটেল’ বিতর্ক
২০২৩ সালের ২৯ জুলাই বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আন্দোলনের সময় আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হারুন অর রশীদ নিজ হাতে তাকে ভাত খাওয়ানোর ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এরপর রাজনীতিক, শিল্পী, কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ বিভিন্ন আলোচিত ব্যক্তিকে ডিবি কার্যালয়ে এনে খাবার পরিবেশন ও সেই ভিডিও প্রকাশ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, গোয়েন্দা সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এসব কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন
‘হাউন আঙ্কেল’ নামের জন্ম
হারুন অর রশীদ আরেকটি নামে পরিচিতি পান—‘হাউন আঙ্কেল’। একবার শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে ভুলবশত তাকে ‘হারুন’ না বলে ‘হাউন’ বলে সম্বোধন করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নামটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদ্রূপাত্মক পরিচয়ে পরিণত হয়।
আন্দোলনের সময় নতুন বিতর্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছয় সমন্বয়কারীকে নিরাপত্তার কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে।
পরে তাদের দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে ভাত খাওয়ার ছবিও প্রকাশ করা হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় উচ্চ আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না, যারে ধরেন, খাবার টেবিলে বসাইয়া দেন।”
বিষয়টি তৎকালীন ক্ষমতাসীন জোটের বৈঠকেও আলোচিত হয়। পরে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩১ জুলাই হারুনকে ডিবি থেকে সরিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একের পর এক বিতর্ক
হারুন অর রশীদের কর্মজীবনে একাধিক বিতর্ক রয়েছে। ২০১১ সালে বিরোধীদলীয় নেতা জয়নাল আবেদীন ফারুককে মারধরের ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসে।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বিভিন্ন বিতর্কে জড়ান। নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের পরিবারকে আটক এবং পরে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
ডিবিতে দায়িত্ব পালনকালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিরো আলমকে আটক করা এবং পরে তার সঙ্গে খাবারের আয়োজন নিয়েও সমালোচনা হয়। হিরো আলম পরে অভিযোগ করেন, অন্য অতিথিদের তুলনায় তাকে শুধু আলুভর্তা, ডাল ও ভাজি পরিবেশন করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ব্লগার, টিকটকার ও বিভিন্ন কনটেন্ট নির্মাতাদের দিয়ে নিজের পক্ষে প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
সরকার পতনের পর নিখোঁজ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে হারুন অর রশীদ আর প্রকাশ্যে দেখা দেননি। তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে ডিবি কার্যালয়ের ‘ভাতের হোটেল’ বিতর্ক, আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আটকে রাখার ঘটনা এবং একাধিক আলোচিত কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।