মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়লেই বাস্তবায়িত হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের চেতনা: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবগাথা স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়। বরং সেই সংগ্রামের কারণগুলো দূর করে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিতে না হয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে জাতিকে বারবার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, দেশে দীর্ঘদিনেও একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রতিটি প্রজন্মকে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য নতুন করে সংগ্রামে নামতে হয়েছে।
আরও পড়ুন
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে আত্মতৃপ্তির বিষয় হিসেবে নয়, বরং একটি নির্মম বাস্তবতার শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কেন রাষ্ট্রকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মেধাবী মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার সুযোগ পান না। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হওয়া উচিত।
গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের কার্যকর ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র টেকসই হয় না। সাম্প্রতিক আত্মত্যাগের পরও যদি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা না যায়, তবে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে আরও গভীর গবেষণা এবং আত্মসমালোচনা প্রয়োজন হবে।
তিনি ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো ঘটনাগুলোকে আবেগের পাশাপাশি গবেষণা, বিশ্লেষণ ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন বুয়েটের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী এবং পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল।