খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে। বাহিনীটির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে এবং সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়। দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগও থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ অধিশাখা) মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনের লক্ষ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে তা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।
আরও পড়ুন
-
পরীক্ষা নয়, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে লটারিতেবৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
-
বিমানবন্দরে বসছে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, নিরাপত্তা জোরদারে এনসিএএসসি সভাবৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
খসড়া আইনে এসআরবিকে মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে বাহিনীটি তল্লাশি, জব্দ, গ্রেপ্তার এবং আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে তদন্তও পরিচালনা করতে পারবে।
খসড়ায় বাহিনীর জন্য হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসারে পরিচালিত হবে।
র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে খসড়া আইনে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন সদস্য থাকবেন।
এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত, প্রয়োজনে অনুসন্ধান দল গঠন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, পদোন্নতি, পদায়ন বা শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগও পর্যালোচনা করবে।
খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত আচরণবিধি ও শৃঙ্খলাবিধান যুক্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্তি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, বেআইনি অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্রের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া নতুন আইন কার্যকর হলে র্যাবের সব জনবল, সম্পদ, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।
উল্লেখ্য, র্যাব ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। গত দুই দশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশ-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে বাহিনীটি। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার নতুন কাঠামো ও নামে বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।