রাজনীতি

জুলাই দিবসে পাঠানো 'মেসেজ' নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ ইসলাম

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, ‘জুলাই ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। রাজনীতির বাইরে থাকা মানুষ, “আই হেট পলিটিক্স” মানসিকতার মানুষ, সুইং ভোটার, শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই এই আন্দোলন সফল হয়েছিল। আর সেই মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই আমি ব্যক্তিগতভাবে বার্তা (মেসেজ) পাঠিয়েছি।’

স্ট্যাটাসের শুরুতে তিনি সবাইকে জুলাই বিপ্লবের শুভেচ্ছা জানান এবং শহীদ কর্নেল গুলজার, শহীদ রেহান আহসান, শহীদ আবরার ফাহাদ, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ তাহির জামান প্রিয়, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ শরিফ ওসমান হাদীসহ সকল শহীদের রক্ত-ঘামে অর্জিত এই স্বাধীনতা সবার উপভোগ করার আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ভাবছিলেন—জুলাইয়ে যারা তার জন্য দোয়া করেছেন, স্ট্যাটাস দিয়েছেন, গান গেয়েছেন, ছবি এঁকেছেন—এমন অনেক অপরিচিত মানুষকে তিনি চিনেন না। রাস্তায় পানি বোতল এগিয়ে দেওয়া খুদে ব্যবসায়ী, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া রিকশা-ভ্যানচালক, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তার—এমন অনেক মানুষ যাদের তিনি চিনেন না। প্লেস্টেশন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির বাইরে কিছু না বোঝা ছেলে, কিয়োশি থেকে ক্রিমসন কাপে সীমাবদ্ধ মেয়ে, যারা কখনো সরকারি চাকরির কথা ভাবেনি, এমনকি বিএএফ শাহীন কলেজের শহীদ আহনাফের মতো ছাত্র যাদের রাজনীতি করার বয়সও হয়নি—তারাও আবাবিল পাখির মতো নেমে এসে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।

তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘জুলাইয়ের পর এদের বেশিরভাগই ঘরে ফিরে গেছে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলেই নেই। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা জুলাইকে রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগবটোয়ারা করে ফেলেছি—বিএনপির ভাগ কত, এনসিপির ভাগ কত, জামাতের ভাগ কত—এভাবেই জুলাইয়ের স্টেক ভাগাভাগি হয়েছে। অথচ জুলাই শুধু রাজনৈতিক দল ও নেতা-কর্মীদের ছিল না; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষ, অ্যাপলিটিক্যাল জনগোষ্ঠী, “আই হেট পলিটিক্স” জনগোষ্ঠী, সুইং ভোটার জনগোষ্ঠী—সবার। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই সফল হতো না। এখন আর তাদের মিছিল-মিটিং, সভা-সেমিনার বা সংবর্ধনায় পাওয়া যায় না—তারা ঘরেই থাকেন।’

বিজ্ঞাপন

নাহিদ ইসলাম জানান, এই মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপায় ভাবতে ভাবতেই তিনি গত দুই দিন যতটা সম্ভব কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন। অনেকেই হয়তো সেই মেসেজ পেয়েছেন, আবার অনেকেই স্প্যাম ফোল্ডারে চলে যাওয়ায় দেখতে পাননি। কারও মেসেজ অপশন বন্ধ থাকায় ইচ্ছা থাকলেও পাঠাতে পারেননি তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা বাংলাদেশের ষোল কোটি বিপ্লবীকেই টেক্সট করা, তাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করা, কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু মানবিক সীমার কারণে সবার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব নয়—এ জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অগণিত মা, দাদী, নানী, বোন, শ্রমিক, রেমিট্যান্স যোদ্ধা, আলেম, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, সৈনিক, সেনা কর্মকর্তা, মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষার্থী, এক্সপ্যাট, পেশাজীবী—সবাই জুলাইয়ের মালিক ও রচয়িতা। তাদের সবার কাছে মেসেজ পাঠাতে না পারলেও তিনি তাদের প্রত্যেককে ‘ফিল’ করেন এবং যারা মেসেজ পাননি তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত জানান। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘আমি আপনাদের ভুলে যাইনি।’

স্ট্যাটাসের শেষে তিনি স্বীকার করেন, জুলাইয়ের পর বহু স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি এবং প্রত্যাশার পরিবর্তনও অনেক দূরে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা ছিল, বহুপক্ষীয় বাধার কারণে অনেক কিছুই অর্জন করতে পারিনি। তবে আমরা আমৃত্যু নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জারি রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আপনাদের ওপর ভরসা রাখুন। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করুন এবং দেশ-জাতির যেকোনো প্রয়োজনে আবারও সরব হন। জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখুন।’

একই বিভাগের আরও খবর

বিজ্ঞাপন