পরে বোনারপাড়াস্থ কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজ আমি আপনাদের কাছে এসেছি। মহান আল্লাহ যেন আমাকে দেশের জনগণের জন্য, মানবতার জন্য এবং মানুষের কল্যাণের জন্য লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।’
যতদিন চলার শক্তি থাকবে, জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব: গাইবান্ধায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান
তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জুলুম-নির্যাতন সহ্য করার পরও তারা জুলুমের পথে ফিরতে চান না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পরও যদি সরকারি লোকদের হাতে মানুষ বঞ্চিত হতে হয়, তাহলে সেই পরিবর্তনের অর্থ কী?’ তিনি উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সংসদের ভেতরে সেই দাবি তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতেও তুলে ধরবেন।
নিহত দুই তরুণকে ‘এলাকার শ্রেষ্ঠ সন্তান’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক। আমরা হত্যার রাজনীতি চাই না।’ তিনি ক্ষমতার লোভ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজিকে সমাজের ‘আবর্জনা’ আখ্যা দিয়ে তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন
প্রশাসনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন কোনো দলের নয়, প্রশাসন গোটা জাতির সম্পদ।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এ দেশের মানুষ আর কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। কারও গোলাম হিসেবে বাঁচতে চাই না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যতদিন আল্লাহ জীবন দেবেন, যতদিন চলার শক্তি দেবেন, ততদিন জাতির প্রয়োজনে আমরা মাঠে থাকব।’ তিনি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি মাওলানা আবদুল হালিম নিহতদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী পলাশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘একসময় মজলুম ছিলেন বলে আজ যদি সন্ত্রাসের হাত না গুটিয়ে নেন, তাহলে জনগণ আবারও জবাব দিতে বাধ্য হবে।’
সমাবেশে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমীর আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমীর আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি ও ছাত্রশিবিরের নেতারা।