শিল্প

চীনের প্রযুক্তি ও একাডেমিক সহযোগিতায় বস্ত্র ও পাট খাতের আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনা: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

সোমবার ঢাকার জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত 'Costume, Culture, and Connection: A Bilateral Symposium on Traditional Attire and Cultural Exchange' শীর্ষক দ্বিপাক্ষিক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাট খাতের উন্নয়নে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটির মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটগুলোর কারিকুলাম পর্যালোচনা করে চীনের আধুনিক টেক্সটাইল শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি চীনের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশের ফ্যাকাল্টিদের চীনে পাঠানোর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শিল্প সংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে। বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে প্রায় ৩৮ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করছে। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য ও ভ্যালু অ্যাডেড টেক্সটাইল উৎপাদনের মাধ্যমে একই পরিমাণ রপ্তানি থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ম্যান-মেড ফাইবার ও ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যের দিকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় টেক্সটাইল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অর্থনৈতিক রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে অনেক দেশ এ খাত থেকে অন্য খাতে অগ্রসর হলেও বাংলাদেশের জন্য টেক্সটাইল খাতে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের এই রূপান্তরকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

পাট খাত প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন পণ্য উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের পাটজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মূল্য সংযোজনমূলক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি বলেন, কাঁচা পাটের পরিবর্তে পাটকে ব্লেন্ডেড ফাইবার, ফেব্রিক ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করা গেলে এ খাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাটের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি হলে কৃষকরাও উপকৃত হবেন এবং পাট চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চীনের ঝেজিয়াং সাই-টেক ইউনিভার্সিটি ও চাইনিজ একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই বিভাগের আরও খবর