তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গেও জড়িত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য ও শক্তিশালী জনমত তৈরি করা প্রয়োজন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা প্রয়োজন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো বিষয়ে কার্যকরভাবে অবস্থান নিতে হলে সবার আগে দেশের জনগণকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।
আরও পড়ুন
-
২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন তারেক রহমানসোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
-
ডেঙ্গুতে একদিনে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮৩৯রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
-
পরিবার নিয়ে বঙ্গভবনে উঠলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলরবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
তিনি বলেন, দল-মত ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিতে পারলে সেটি সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে রোহিঙ্গারা গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন, খাদ্য ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকার রয়েছে। নিজ দেশে এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসায় তাদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি কূটনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অপরাধপ্রবণতা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নয়। তাদের পরিচয়, অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার আইনের আলোকে বিবেচনা করতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়, তারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীও নয়। কিন্তু তারা মানুষ এবং তাদের মানবাধিকার রয়েছে।’ রোহিঙ্গাদের রাখাইন অঞ্চলের ঐতিহাসিক জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে তাদের অধিকার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক চাপগোষ্ঠীর প্রতি জাতীয় জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পক্ষে দেশের মানুষের শক্তিশালী সমর্থন থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক সভাপতিত্ব করেন। সূচনা বক্তব্য দেন সংগঠনটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. শফিক আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।
আলোচনায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইশরাত জাকিয়া সুলতানা, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক পারভেজ পালমা, রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রোশিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক, শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।