রোববার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান হয়। ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও পরিচালিত হবে।
৫৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ড ব্রেকিং
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও দ্রুত ও দক্ষ হবে।
আরও পড়ুন
তিনি জানান, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের চাহিদা পূরণে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নতুন টার্মিনালটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬১৬ মিটার দীর্ঘ একটানা জেটি, আধুনিক কনটেইনার ইয়ার্ড, প্রবেশপথ ও পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে তীরে পণ্য ওঠানো-নামানোর আধুনিক ক্রেন এবং বৈদ্যুতিক রাবারচালিত গ্যান্ট্রি ক্রেন স্থাপন করা হবে।
টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা হবে প্রায় ৮ লাখ টিইইউ। বড় জাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথে বাংলাদেশের সংযোগও আরও শক্তিশালী হবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে লালদিয়া টার্মিনালকে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও লজিস্টিকস ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
লালদিয়া টার্মিনাল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কর্ণফুলী টানেল ও মেরিন ড্রাইভ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় দেশের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগ সুবিধাজনক হবে। ফলে পণ্য খালাস, কনটেইনার পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দক্ষতা বাড়বে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আরও কয়েকটি টার্মিনাল ও অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে। দেশের স্বার্থ, অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে এসব বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রকল্পের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।
গ্রাউন্ড ব্রেকিংয়ের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আধুনিক বন্দর অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।