শনিবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গ্রিন সিটি এলাকার পিডি হাউসে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে এ কর্মশালা ও অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।
জরুরি মোকাবিলায় জাতীয়-স্থানীয় সংস্থার সমন্বিত কর্মশালা ও অনুশীলন অনুষ্ঠিত
কর্মশালায় পাবনা ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য অংশীজন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান।
আরও পড়ুন
কর্মশালার প্রথম পর্বে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি ও সাড়াদান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কেন্দ্রটির আধুনিক নিরাপত্তা নকশা, সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়।
দ্বিতীয় পর্বে কাল্পনিক জরুরি পরিস্থিতির ভিত্তিতে টেবিলটপ অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব, পারস্পরিক সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনুশীলন করা হয়।
বক্তারা বলেন, সম্ভাব্য পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মহড়া ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিরাপদ পরিচালনার পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জনে কার্যকর জরুরি প্রস্তুতি, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় ও নিয়মিত মহড়া গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, জাতীয় বিধিমালা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে অপারেটর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির প্রতি আস্থা বাড়াবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, রূপপুরে সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা অত্যন্ত নগণ্য। তবে সম্ভাবনা কম হলেও জাতীয় বিধিমালা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, নিরাপদ পরিচালনা শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; দক্ষ জনবল, শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও কার্যকর জরুরি প্রস্তুতির সমন্বয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রূপপুরের দক্ষ পরিচালন দল রাশিয়ার অভিজ্ঞ পরিচালন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
রূপপুর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনায় জরুরি প্রস্তুতি ও সব অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালার টেবিলটপ জরুরি সাড়াদান অনুশীলন সমন্বয় করেন এনপিসিবিএলের মো. রাবিউল ইসলাম ও মো. সাব্বির আহমেদ।