নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত আকার ও সীমার মধ্যে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রচারে মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারের সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই
ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল এ-ফোর আকারের, ফেস্টুন সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি এবং বিলবোর্ডের প্রচার অংশ সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট হতে পারবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি, উপজেলা পরিষদে প্রতি ইউনিয়ন বা পৌর ওয়ার্ডে একটি করে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
প্রচারসামগ্রী সাদা-কালো হতে হবে এবং ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। প্রতীক ছয় ফুটের বেশি দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতার হতে পারবে না এবং প্রচারে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ একটি মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। একই সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার করা যাবে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারে বাধা নেই। তবে এ ধরনের প্রচারের ব্যয় নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিকৃত ছবি বা বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তু প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।
ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাদের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেনের উদ্দেশ্যেও ভোটারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতা, মেয়রসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী ছাড়া স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিধি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান বহাল রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।