বৃহস্পতিবার হংকং কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সামিটের সাইডলাইনে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক সোফিয়া চংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সরাসরি প্রবেশ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ বাংলাদেশের প্রিমিয়াম ফল হংকংয়ের সুপারমার্কেট ও বড় আমদানিকারকদের কাছে পৌঁছাতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ ও ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি হংকংয়ের পরিবেশবান্ধব খুচরা ও নকশাশিল্পে বাংলাদেশের পাট ও জৈবভাবে পচনশীল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে ভর্তুকিযুক্ত বা বিনামূল্যের প্রদর্শনী স্টল, ইলেকট্রনিক উৎস সনদ চালু, শুল্ক প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং যৌথ পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রস্তাব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হংকংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
সোফিয়া চং বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বৈঠক শেষে তাঁর নেতৃত্বে হংকং ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।