রোববার সচিবালয়ে বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় তিনি বলেন, চা শিল্পকে শুধু ঋণ ও প্রণোদনানির্ভর না রেখে রাজস্ব, কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদান রাখার মতো সক্ষম খাতে পরিণত করতে হবে।
চা খাত পুনরুজ্জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আয়ের নতুন উৎস তৈরির উদ্যোগ
সভায় চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, কৃষি ও বিকল্প বনায়নের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সভায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চা প্রবেশ এবং নিলামের বাইরে সরাসরি বিক্রির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এতে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বক্তারা বলেন, সরকারি প্রণোদনা ও ঋণের পাশাপাশি চা বাগানগুলোর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাগানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই শ্রমিকদের সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে খাতটিকে টেকসই করা প্রয়োজন। তিনি চা শিল্পের সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।