গত ২৮ অক্টোবর নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তিনি।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাহসিফ
গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের চাকরি, বিমানবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন সম্পর্কে কথা বলেন তাহসিফ। ওই প্রতিবেদনকে তিনি অপপ্রচার বলেও দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে উপস্থাপক শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করলে তাহসিফ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে তাঁকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হলেও তিনি নিজে ভিডিও ধারণ করেছিলেন—এমন কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, “আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুফ দে আর হ্যাভিং।” অর্থাৎ, ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সঙ্গে এ অভিযোগের সম্পর্ক ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাহসিফ বলেন, “হতে পারে।” ওই সময়ের সব ঘটনা প্রকাশ করতে পারবেন না উল্লেখ করে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন, অভিযোগটির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্যে ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে স্বীকার করা হয়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এক বন্ধু হিসেবে পরিচিত কেএসএম ইনতিসার ইনজামামের একটি পোস্টও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত বলে পরিচিত ওই ব্যক্তি পোস্টে তাহসিফকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি তাহসিফের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আরও তথ্য জানার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ইনজামাম তাঁর পোস্টে তাহসিফের সঙ্গে আদমজী কলেজে পড়াশোনা এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। তবে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ এবং ভিডিও-সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া তাঁর মৃত্যুকে হত্যা, দুর্ঘটনা কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ফল হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যায় না।