বৃহস্পতিবার সকালে খাদ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে খাদ্যশস্যের মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অবকাঠামো নির্মাণে তাৎক্ষণিক চাহিদার পাশাপাশি আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য গুদামের নকশায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি—এমন অঞ্চলে সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান গুদাম সংস্কার ও নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় ভবিষ্যৎ খাদ্যসংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণব্যবস্থা খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বলেন, সরকারি স্থাপনার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। খাদ্য অধিদপ্তরের অবকাঠামো উন্নয়নে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমানো ও কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ডভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দুই অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে খাদ্য গুদাম নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি অপচয় কমবে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার হবে।
বক্তব্য পর্ব শেষে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে তাঁরা খাদ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত স্মারক বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে খাদ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং খাদ্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




