জাতীয়

আগাম প্রস্তুতির কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমেছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নলেজ হাব ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সহনশীলতা’ শীর্ষক নীতিনির্ধারণী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যগত প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নলেজ হাবের প্রেসিডেন্ট খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। এর পেছনে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি সামাজিক কারণও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের অসুস্থতাকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক রোগী অসুস্থ হওয়ার তিন দিনের বেশি সময় পর হাসপাতালে আসেন। দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠে। তাই অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগের পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও আগেভাগে শুরু করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতাজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায়ও কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী গবেষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তৈরি এবং পরবর্তী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা নীতিনির্ধারকদের কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিতে বলেন। তাঁর মতে, গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা আরও কার্যকর হবে।

অনুষ্ঠানে নলেজ হাবের প্রেসিডেন্ট খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, দেশে ডেঙ্গুতে ২০২৩ সালে ১ হাজার ৭০৫ জন, ২০২৪ সালে ৫৭৫ জন এবং ২০২৫ সালে ৪১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঢাকার বাইরের হলেও মৃত্যুর ৫৭ থেকে ৬৪ শতাংশ ঘটে ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোতে।

একই বিভাগের আরও খবর