জাতীয়

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা, প্লে-নার্সারি-কেজি ও অতিরিক্ত বই নিষিদ্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

জনস্বার্থে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। তাঁদের কাছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ ও প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০-এর উল্লেখ করে বলা হয়, দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে দাবি করা হয়, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি করিয়ে অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এসব কোর্স নিষিদ্ধ করে শুধু সরকার অনুমোদিত একক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার মতো প্রক্রিয়া শিশুদের মধ্যে ভীতি, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করতে পারে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনসিটিবির মূল পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত ব্যাকরণ, অনুশীলন ও সহায়ক বই পড়তে বাধ্য করছে। এতে শিশুদের পড়াশোনার চাপ বাড়ার পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুনের নোটিশে বলা হয়, শিশুদের ওপর এ ধরনের চাপ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অধিকার এবং ১৭ ও ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শিক্ষা ও সমতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত পাঠ্যক্রম, ভর্তি পরীক্ষা ও অনুমোদনহীন বইয়ের চাপ শিশুদের মুক্তচিন্তা ও সৃজনশীল বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

নোটিশে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স নিষিদ্ধ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, এনসিটিবির পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদারকি দল গঠনের কার্যকর নির্দেশ জারির দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিশুদের সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

একই বিভাগের আরও খবর