বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে নির্ধারিত সময়ে নতুন পে-স্কেল চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনাও সম্পন্ন হয়েছে। তবে কবে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায়: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
তিনি জানান, নতুন বেতনকাঠামো একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি করা হবে। তবে বিভিন্ন গ্রেডে বেতনের হার কত হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, গেজেট জারির আগে বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। সেই পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর মূল বেতনে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট যোগ হলেও নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতনকাঠামোর অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’ সরকারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।
কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা কাঠামো পুনর্বিন্যাসেরও সুপারিশ করা হয়।