আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাবানলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে। প্রায় ২৮ লাখ মানুষের এ শহরে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে টরন্টোসহ দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে এনভায়রনমেন্ট কানাডা। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কানাডাজুড়ে ৮৫০টির বেশি দাবানল, ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা ক্ষতিকর গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণিকা ফুসফুস এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দাবানলের কারণে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি এলাকায় প্রয়োজন হলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বজ্রপাতের কারণে শুকনো বনাঞ্চলে আগুন লাগার পাশাপাশি মানবসৃষ্ট কারণেও অনেক দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে।
আরও পড়ুন
সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি উত্তর অন্টারিওতে। সেখানে বর্তমানে ১৩৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। পুরো অন্টারিও প্রদেশে এ বছর এখন পর্যন্ত ৪৮৩টি দাবানল রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের ৩৫১টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিমান প্রস্তুত রাখতে কানাডার ফেডারেল সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাব শুধু কানাডাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোর বায়ুমানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।