বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা ২৬ মিনিট (জিএমটি) পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১ দশমিক ১৭ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে এই পতন প্রায় ২ শতাংশে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে, একই সময়ে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ বাব আল-মান্ডেব প্রণালি বন্ধের প্রস্তুতি নিতে ইয়েমেনের হুথিদের প্রতি ইরানের নির্দেশনার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
তেলের দাম বাড়ার কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেড সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বা দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের পরিবর্তে বন্ডে বিনিয়োগকে বেশি লাভজনক মনে করছেন, কারণ স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে প্রায় ৫১ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এদিকে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ চলতি সপ্তাহে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নীতিগত ইঙ্গিত দেননি।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের লেনদেন ডলারে হওয়ায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। এতে স্বর্ণের চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ১৭ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭৯ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।