ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে হাজারো মানুষ জন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করেন। তবে কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়।
বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সংসদমুখী মিছিল ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং পরে লাঠিচার্জ চালায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্য দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে নগরজুড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন
এর আগে দিল্লি পুলিশ জানায়, কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, জন্তর মন্তরের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও অনুমতি ছাড়া মিছিল, সমাবেশ বা পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও বাধার মুখে পড়লেও উত্তেজিত না হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গঠিত ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন শুরু করে। পরে আন্দোলনে যোগ দেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। গত ২৮ জুন থেকে তিনি জন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় সরকার স্বীকার না করা এবং বিষয়টি সংসদে আলোচনার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।