আন্তর্জাতিক

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনেও যন্তর মন্তরে আন্দোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক হলেও তাদের দাবির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। তাই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষের পর পুলিশ যন্তর মন্তরের অস্থায়ী মঞ্চ ও তাঁবু সরিয়ে দেয়। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকেই আন্দোলনকারীরা আবার সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সিজেপির ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নামলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বলে জানায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

আরও পড়ুন

দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। সহিংসতা, ভাঙচুর ও সরকারি সম্পদের ক্ষতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করেন। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে, যাতে বহু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আন্দোলনকারীরা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো— সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের ওপর আরোপিত চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, মন্ত্রী তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কোনো দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী তরুণদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার হাতে লেখা একটি বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে ওয়াংচুক শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন ঘিরেও দিল্লির পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের পরবর্তী আলোচনার দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই বিভাগের আরও খবর