জাতীয়

চিনিতেও মিলল ব্যাপক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

সম্প্রতি Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেন গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। যদিও দুই ধরনের চিনির মধ্যে পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়, তবুও খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি।

বিশ্লেষণে শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল তন্তুজাতীয় (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং ৫ শতাংশ গোলাকার কণা। গবেষকদের মতে, এসব কণা প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা ক্ষয়প্রাপ্ত প্লাস্টিক থেকে খাদ্যে মিশতে পারে।

আরও পড়ুন

রাসায়নিক বিশ্লেষণে অ্যাক্রাইলোনাইট্রাইল বিউটাডিয়েন স্টাইরিন (এবিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), পলিইথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি), পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন (পিটিএফই), উচ্চ ঘনত্বের পলিইথিলিন (এইচডিপিই) এবং নাইলনসহ একাধিক প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমানে এই মাত্রা তুলনামূলক কম হলেও নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে চিনি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের একটি ধারাবাহিক উৎস হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, চিনি উৎপাদন, পরিশোধন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিকভিত্তিক ফিল্টার, পাইপ, বস্তা, কনভেয়ার ও প্যাকেজিং উপকরণের কারণে এ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বাতাসের মাধ্যমে ভাসমান মাইক্রোপ্লাস্টিকও চিনির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বাস্থ্যসম্মত মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে বিস্তৃত গবেষণা চালানোর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

একই বিভাগের আরও খবর