রাজধানী

মেট্রো স্টেশনে পার্কিং ইজারা, ফি নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, দুই বছরের চুক্তিতে তিনটি স্টেশনের পার্কিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে। উত্তরা উত্তরে দায়িত্ব পেয়েছে মাস্টার এন্টারপ্রাইজ, উত্তরা সেন্টারে মাহি ইন্টারন্যাশনাল এবং উত্তরা দক্ষিণে ভূমিস লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনে পার্কিংয়ের জন্য ডিএমটিসিএলের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, কার বা জিপ গাড়ির জন্য দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ৬০ টাকা, মোটরসাইকেলের জন্য ৩০ টাকা, সাইকেলের জন্য ১০ টাকা এবং মাইক্রোবাস বা হায়েসের জন্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২২ আগস্ট) পার্কিং ইজারার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমটিসিএলের মার্কেটিং ম্যানেজার মো. ওসমান গনি বলেন, মেট্রোরেল ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে যাত্রীদের ওঠানামায় যে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি হতো, পার্কিং ব্যবস্থা চালুর পর তা অনেকটাই কমেছে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কেউ পার্কিংয়ের নামে অর্থ আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইজারাদারদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই পার্কিং ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান চাইলে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম ফি নিতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

তবে পার্কিং ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, গাড়ি রেখে মেট্রোরেলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপদ পার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এটি ইতিবাচক উদ্যোগ। বিশেষ করে যানজটের কারণে গাড়ি রেখে মেট্রোরেলে যাতায়াত করা ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধা কাজে আসবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, অল্প সময়ের জন্য কাউকে যাত্রী ওঠানো বা নামানোর কাজে স্টেশনে থামলেও পার্কিং ফি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, পার্কিং ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে যাত্রী ওঠানামা ও প্রকৃত পার্কিংয়ের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একজন গাড়িচালক বলেন, পার্কিং চালুর ফলে গাড়ি নিরাপদে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য স্বল্প সময় অবস্থান করলেও যদি পার্কিং ফি নেওয়া হয়, তাহলে সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব।

মেট্রোরেল যাত্রীদের কেউ কেউ আরও প্রশ্ন তুলেছেন, স্টেশনগুলোর নিচের সড়কে দীর্ঘ সময় অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোর কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। তাদের মতে, একদিকে পার্কিংয়ের জন্য ফি নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্টেশনগুলোর নিজস্ব খালি জায়গা ব্যবহার করেই পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আগে এসব জায়গায় বিভিন্ন যানবাহন এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের চলাচলে সমস্যা তৈরি হতো। নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই বিশৃঙ্খলা কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার ও উত্তরা দক্ষিণ মেট্রো স্টেশনের গ্রাউন্ড লেভেলে কার, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের পার্কিং স্ট্যান্ড স্থাপনের জন্য জায়গা ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএমটিসিএল। ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পার্কিং পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 

একই বিভাগের আরও খবর