সোমবার রাজধানীর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক
বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে। বাংলাদেশে কাজ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলো আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। দ্রুত সময়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
আমদানি নীতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত নতুন নীতির কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করলেও কয়েকটি ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি নীতি নিয়মিত পর্যালোচনা ও সংস্কার করা হচ্ছে।
কৌশলগত সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে।
জ্বালানি সহযোগিতা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গানভরের সঙ্গে চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের অর্থনৈতিক প্রধান এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।