সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের দ্বিতীয় পর্বের সমাপ্তি হয়। দ্বিতীয় পর্বে নয় দিন ধরে দেশের নয়টি নাট্যদলের নয়টি নাটক মঞ্চস্থ হয়।
জমকালো আয়োজনে শেষ হলো ঢাকা নাট্যোৎসব
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। সভাপতিত্ব করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।
এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৬ সেপ্টেম্বর নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব, যা ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় পর্বে প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদল (বনানী)-এর ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্যদলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’ মঞ্চস্থ হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব শুধু পরিচ্ছন্নতা ও কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নগরবাসীর বিনোদনের সুযোগ তৈরি এবং ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, নগরীকে ভালোবাসলে নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তৈরি হবে, যা পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, লালকুঠিসহ বিভিন্ন স্থাপনা আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ছুটির দিনে কার্জন হল, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলসহ ঐতিহাসিক স্থানে শিক্ষাসফরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সুবিধার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী নাট্যদলগুলোর হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র ও উপহার তুলে দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।