অর্থনীতি

তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারত্ব ও জনমিতিক বৈষম্য নিয়ে আইএমএফের উদ্বেগ

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে
বিজ্ঞাপন

আইএমএফের অক্টোবর ২০২৬-এর ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক—এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ প্রতিবেদনে এশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের ‘এআই যুগে এশিয়ার শ্রমবাজার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক অধ্যায়ে ১৯টি অর্থনীতির প্রায় চার কোটি অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশাগুলোতে নিয়োগের চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে এআই-সংশ্লিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, কাজের ধরন ও প্রয়োজনীয় দক্ষতাও বদলে দিচ্ছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে শ্রমিকসংকটে থাকা অর্থনীতিগুলোতে প্রযুক্তি শ্রমের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে

আরও পড়ুন

আইএমএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়ার কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতিতে তরুণদের বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। কিছু দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। আবার অনেক স্নাতক তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনে প্রায় ৭০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাঁদের ডিগ্রির প্রয়োজন হয় না। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অর্জিত দক্ষতা এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান এ সমস্যার অন্যতম কারণ।

বিজ্ঞাপন

কম বেকারত্বের আড়ালে শ্রমবাজারের দুর্বলতা

এশিয়ায় সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম হলেও এতে শ্রমবাজারের পুরো চিত্র উঠে আসে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে কর্মবাজারের বাইরে থাকা তরুণ নারী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত মানুষের চাকরির নিরাপত্তা ও উন্নতির সুযোগ সীমিত।

দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে উৎপাদন খাত ক্রমেই মূলধন ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে ওঠায় শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন কমছে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিভাজনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগও অনিশ্চিত হচ্ছে।

জনসংখ্যার পরিবর্তনে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ছে। বিপরীতে, পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশগুলোতে পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও চাকরির অভাব এ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

অন্যদিকে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে শ্রমিকসংকটে থাকা অর্থনীতিগুলোতে এআই ও প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

আইএমএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে চাকরির বাজারের সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মীদের খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতার ওপর। তাই শুধু বেকারত্বের হার নয়, কর্মসংস্থানের মান, দক্ষতার ব্যবহার এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

একই বিভাগের আরও খবর