শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার প্লেনারি অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অজয় বাঙ্গা বলেন, কর্মসংস্থান শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবিলা বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং বেসরকারি পুঁজির সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে অজয় বাঙ্গা জানান, ২০২২ অর্থবছরে সংস্থাটি ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন সংহত করেছিল। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ১১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও উৎপাদনশিল্পের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাতে এসব অর্থায়ন করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, প্রকল্প প্রস্তুতির গড় সময় ১৯ মাস থেকে কমিয়ে ৯ মাসে আনা হয়েছে। সংস্থাটির ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক (আইবিআরডি) আগামী এক দশকে অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে পারবে। অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নের পাইপলাইনও বেড়ে ২৫০টি প্রকল্পে পৌঁছেছে, যেখানে মোট ১৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে অর্থায়ন সহজ করা, উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, শুধু ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থান সংকট সমাধান সম্ভব নয়; দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও বক্তব্য দেন অজয় বাঙ্গা। তিনি বড় ও ব্যয়বহুল এআই মডেলের পাশাপাশি সহজলভ্য ও ব্যবহারিক ‘স্মল এআই’ প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তি কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, শিক্ষকের পাঠদান উন্নত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। এ জন্য বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি।
এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা, ১০০ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি ও উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং ২০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে সহায়তার মতো কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবায় একই সময়ের মধ্যে ১৫০ কোটি মানুষের কাছে উন্নত ও সাশ্রয়ী সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন বাড়াতে পেনশন তহবিল ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান অজয় বাঙ্গা। তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়ন, বেসরকারি মূলধন, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে কর্মসংস্থানের ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে এবং মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।




