বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে তিনি দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। পাশাপাশি পূর্বাচলে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির নির্দেশ দেন।
দুই মাসে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরানোর হুঁশিয়ারি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। জনসংখ্যা ও আবাসন বাড়ার সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা নতুন উদ্যোগের প্রতিফলন দেখা যায়নি। পানির সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ২৬ শতাংশ উপরিভাগের উৎস থেকে আসে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন
ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোর্ডের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে জনসেবামূলক কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়িয়ে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো, মিটার রিডিং ও বিলিংয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা জোরদার এবং ২০৫০ সালের চাহিদা বিবেচনায় নতুন জনবল কাঠামো তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।
শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না। পাশাপাশি পানির অপচয় রোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন ও সিবিএ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই মাস পর আবারও ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনে নগরবাসীর পানিসেবা উন্নত করার প্রত্যাশা জানান তিনি।