আইন-বিচার

সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী ‘গুম’ মামলায় সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুর রহমানকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এসে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ থেকে নিখোঁজ হন পিরোজপুরের বাসিন্দা সুখরঞ্জন বালী। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পরে তাকে সীমান্ত এলাকায় পাওয়া যায়। তবে শুরু থেকেই তার পরিবার ও কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন অভিযোগ করে আসছিল, ট্রাইব্যুনাল এলাকা থেকেই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন সুখরঞ্জন বালী। অভিযোগে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

আরও পড়ুন

অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক বিচারক এ টি এম ফজলে কবির, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন এবং পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম আউয়ালের নামও রয়েছে।

অভিযোগে সুখরঞ্জন বালী দাবি করেন, ২০১০ সালে তাকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। পরে সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীর অনুরোধে তিনি প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতে সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গেলে পুলিশ তাকে চোখ ও হাত বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েক মাস ধরে জানালাবিহীন কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন কারাগারে আটক থাকার সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ করেন।

দেশে ফিরে এলেও নিরাপত্তার কারণে নিজ জেলা পিরোজপুরে যেতে পারেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সুখরঞ্জন বালী।

একই বিভাগের আরও খবর