সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের পরিবর্তে নিরাপত্তা যাচাই (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) শেষে নতুন সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সচিবালয়ের প্রবেশদ্বার, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালনকারী দীর্ঘদিনের পদায়নপ্রাপ্ত সদস্যদের পর্যায়ক্রমে বদলি করে নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বদলি তালিকায় রয়েছেন তিনজন পুলিশ পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট, পাঁচজন উপপরিদর্শক (এসআই), ১৬ জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), ১২ জন নায়েক এবং ১৩২ জন কনস্টেবল।
জনবল পরিবর্তনের পাশাপাশি সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে। এখন দর্শনার্থীদের ওটিপি-ভিত্তিক প্রবেশের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং এনআইডির সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে প্রায় ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কয়েকটি গেটের ব্যবহার সীমিত করা এবং ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে দর্শনার্থী প্রবেশের নতুন নীতিমালা জারি করা হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে ওটিপি-সমর্থিত প্রবেশ পাস ইস্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-কমিশনার কাজী আবু সাঈদ বলেন, এখন পর্যন্ত ৮২ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোজনের মাধ্যমে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে পদায়ন পাওয়া পুলিশ সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নতুন সদস্য দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের প্রবেশব্যবস্থাও আরও আধুনিক ও নিরাপদ করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় নির্দিষ্ট সময় পরপর নিরাপত্তাকর্মীদের রোটেশন, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা কৌশলের অংশ।