বুধবার (৮ জুলাই) ১১ দলীয় জোট আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘আমরা এমন এক দেশে বাস করি, যেখানে বিচারের জন্যও আলাদা কর্মসূচি করতে হয়। এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বই হচ্ছে নাগরিককে বিচার নিশ্চিত করা। বিচার চাইতে হয় প্রজাদের, নাগরিকদের নয়।’
তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা যে রাষ্ট্রকে রিপাবলিক বলছি, সেটি আদৌ নাগরিক রাষ্ট্র কি না। যদি সংবিধান আমাদের প্রকৃত নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিত, তাহলে বিচারের দাবিতে জেলা, উপজেলা কিংবা জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি করতে হতো না।’
জুলাই গণহত্যার বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে দুই ধরনের বিচার প্রয়োজন। একটি হলো, যেসব ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাদের বিচার। অন্যটি হলো, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার।’ এ বিষয়ে ভিন্নমত তুলে ধরে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘কংগ্রেসের আদলে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হোক। সেখানে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন। শুনানিগুলো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে সরাসরি প্রচার করা হলে মানুষ জুলাইয়ের ঘটনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের গল্প গণমাধ্যমে পর্যাপ্তভাবে তুলে ধরা হচ্ছে না।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘১ হাজার ৪০০ শহীদের কোনো জীবনী নেই, তাদের গল্প মানুষের সামনে আসছে না। অথচ অন্য বিষয় নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে আমাদের সম্মিলিত স্মৃতি থেকে জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে শুধু বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা সম্ভব হবে না। তাই বিচার, সংস্কৃতি ও জনমত—এই তিন ক্ষেত্রেই একযোগে কাজ করতে হবে।’