জাতীয়

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের জোর গুঞ্জন, নেপথ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের দাবি

ঢাকা ম্যাগাজিন ডেস্ক প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ১ মিনিটে পড়া যাবে

সূত্রগুলোর দাবি, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফরে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন টেলিফোনে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ৯ মে লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকেই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্য।

তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা দাবি করেছেন, সম্ভাব্য পদত্যাগের পেছনে শুধু ওই ফোনালাপ নয়, আরও জটিল রাজনৈতিক কারণ রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হওয়ার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। গত ১০ জুলাই প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও সরকারের নজরদারি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন

বিএনপির ওই নেতা মনে করেন, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। এর মাধ্যমে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে রাষ্ট্রপতি কবে পদত্যাগ করতে পারেন কিংবা তার উত্তরসূরি কে হবেন—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

বিষয়টি জানতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে জুলাই ২০২৪–এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগের সময়ের একমাত্র শীর্ষ সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি নির্বাচনের পর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়াকে তারা ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এক-দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তারা শুনেছেন।

তবে রাষ্ট্রপতির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের অনুষ্ঠান রয়েছে।

একই বিভাগের আরও খবর