মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ভারতে পালানোর সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানায়, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও কোতোয়ালি থানার সমন্বয়ে গঠিত ৯ সদস্যের একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নজরদারিতে ছিলেন। সম্প্রতি তার দুই সহযোগী গ্রেপ্তারের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
আরও পড়ুন
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি চালানো হয়। পরে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনের দুই সহযোগী মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। তাদের মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আসিফকে গ্রেপ্তারের সময় তার কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে আরিফের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি নিজেদের ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে পরিচয় দেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার সহযোগীদের দেওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর যশোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অবৈধ অস্ত্রের উৎস, অন্যান্য সহযোগীর পরিচয় এবং চট্টগ্রামে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।