সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে শবনম ফারিয়া জানান, ২০১২ সালে পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোশুট ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন। ২০১৩ সালে প্রথম টেলিফিল্মে অভিনয় করলেও পরিবারের সিদ্ধান্তে স্নাতক শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেননি। পরে ২০১৫ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গভাবে অভিনয়ে যুক্ত হন।
তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারি এবং ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের কারণে অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতি নেন। একই সময়ে পলিসিস্টিক ওভেরিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস)-এর কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ায় ক্যামেরার সামনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। এ কারণে কাজও কমিয়ে দেন। পরবর্তীতে মাস্টার্স শেষ করে একটি চাকরিতেও যোগ দেন।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শবনম ফারিয়া লেখেন, “আমি অনেক বড় গলায় বলতে পারি, এই দীর্ঘ ১৪ বছরে কেউ কোনো দিন, সরাসরি কিংবা আকারে-ইঙ্গিতে, আমাকে কোনো খারাপ প্রস্তাব দেয়নি কিংবা দেওয়ার সাহস পায়নি।”
তার মতে, একজন শিল্পী নিজেই ঠিক করে দেন অন্যরা তার ব্যক্তিগত পরিসরে কতটুকু প্রবেশাধিকার পাবে। সে কারণেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি বলে তিনি মনে করেন।
মিডিয়ায় নিজের অবস্থান সম্পর্কে ফারিয়া বলেন, ইন্ডাস্ট্রির অধিকাংশ মানুষ তাকে স্নেহ করেন। ২০১৯ সালে তার বিয়ের সময় পুরো মিডিয়াপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল তিনি কিছুটা রাগী স্বভাবের। তবে অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাকে সম্পৃক্ত করার মতো প্রমাণ কারও কাছে নেই।
কাজের ধরন প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তিনি সবসময় পরিচালকদের মাধ্যমেই কাজ গ্রহণ করেন। কোনো প্রযোজকের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে কাজ নেন না। ফলে তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা গুঞ্জনেরও কোনো ভিত্তি নেই।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে শবনম ফারিয়া বলেন, তার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হলে প্রয়োজনে স্ক্রিনশট, কল রেকর্ডসহ প্রমাণ প্রকাশ করবেন এবং আইনি ব্যবস্থাও নেবেন। পাশাপাশি যারা গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের আগে মিডিয়ার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তার সম্পর্কে জানার পরামর্শ দেন তিনি।