আজ রাজধানীর একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘Indigenous Identity is Irrelevant for Bangladesh’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতিসত্তা কোনো বহিরাগত অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দখল ও উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠেনি; বরং দীর্ঘ নৃতাত্ত্বিক বিবর্তন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এর বিকাশ ঘটেছে।
তিনি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেসব দেশে আদিবাসী উচ্ছেদের বাস্তবতা থাকলেও বাংলাদেশের ইতিহাস ও জনমিতির সঙ্গে তার তুলনা চলে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের কথায় ও প্রতিক্রিয়ায় খেয়াল রাখতে হবে যেন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক কোনো শব্দ বা বয়ান জনপ্রিয় না হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী একক বা একমাত্রিক নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে আবদ্ধ নয়; বরং হাজার বছরের সংমিশ্রণ ও সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ায় গড়ে উঠেছে বহুমাত্রিক সমাজ, যা অভিন্ন রাষ্ট্রীয় পরিচয়ে আবদ্ধ।
‘বাংলাদেশের জনমিতি বুঝতে হলে অভিবাসীদের চশমা দিয়ে দেখা যাবে না—বুঝতে হবে আমাদের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ধারা,’ বলেন তিনি। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের মনোজগত দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমস্যা বোঝা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন এবং সামাজবিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞানকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
নাগরিকত্বভিত্তিক বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ধারণাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা বৈচিত্র্যকে অভিন্ন কাঠামোতে ধারণ করতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, ‘সঠিক প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া যায়, ভুল উত্তর সংশোধন করা যায়; কিন্তু ভুল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নিজেকে যুক্ত না করাই ভালো।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। গোলটেবিলে গবেষক, শিক্ষক, নৃতত্ত্ববিদ, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।





