মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামাণিক সই করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পাওয়া নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা সব খাদ্য ও পানীয় নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। মাদ্রাসার ক্যান্টিন ও অস্থায়ী খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করা যাবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে খাদ্যের গুণগত মান, সংরক্ষণ ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। খাদ্য কেনার ক্ষেত্রে বৈধ উৎস থেকে সংগ্রহ, ক্যাশ মেমো বা চালান সংরক্ষণ ও মেয়াদ যাচাই বাধ্যতামূলক।
রান্নাঘর, ডাইনিং স্পেস ও পানীয় জলের উৎস নিয়মিত পরিষ্কার রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য ও ভেজালের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক সভা ও সেমিনার আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নেতৃত্বে অন্তত পাঁচ সদস্যের ‘নিরাপদ খাদ্য তদারকি কমিটি’ গঠন করতে হবে। কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে খাদ্য ব্যবস্থা পরিদর্শন করতে হবে।
মাদ্রাসার আশপাশের দোকানেও যেন ভেজাল বা ক্ষতিকর খাবার বিক্রি না হয়, সেদিকে নজরদারি ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনিরাপদ খাবার বিক্রির বিষয় নজরে এলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে।
খাদ্যে ভেজাল বা অনিয়মের অভিযোগ গ্রহণের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী খাদ্য গ্রহণের পর অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিষয়টি অভিভাবক, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে জানাতে হবে।
এছাড়া জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন এবং নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক পোস্টার ও ব্যানার মাদ্রাসার দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





