প্রধান বিষয়বস্তুতে যান
সর্বশেষ
গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ● প্রান্তিক জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি: প্রতিমন্ত্রী টুকু ● নিরাপদ অভিবাসন ও শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক ● বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬: ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ● মহাপরিচালককে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ অডিও প্রচারের প্রতিবাদ বাংলাদেশ রেলওয়ের ● পাহাড়ে কফি-কাজুবাদাম চাষ ও আধুনিক শিক্ষায় জোর সরকারের ● চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বিদায়ী সাক্ষাৎ ● ২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত ● বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিল পাকিস্তান ● বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে: হুমায়ুন কবির ●
ঢাকা-দিল্লি কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

দিল্লির দ্বিমুখী নীতি ও ঢাকার ‘হার্ড মেসেজ’

বিজ্ঞাপন
দিল্লির দ্বিমুখী নীতি ও ঢাকার ‘হার্ড মেসেজ’
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ব্রিফিং এবং তৎপরবর্তী কূটনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক স্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতীয় প্রতিনিধি দীনেশ বাবুজীর আচমকা দৌড়ঝাঁপ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর জরুরি সাক্ষাৎ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের গদবাঁধা কূটনৈতিক প্রথার বাইরে গিয়ে ঢাকার দেওয়া এক কঠোর ও স্পষ্ট বার্তার সরাসরি প্রভাব।

দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে (এফসিসি) শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়াকে বাংলাদেশ কোনোভাবেই সহজভাবে নেয়নি। পূর্বে যেখানে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে ভারতের মাটিকে বাংলাদেশবিরোধী কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, সেখানে এমন একটি আয়োজন স্পষ্টতই দ্বিমুখী আচরণের নামান্তর। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির কাছ থেকে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রত্যাশা করে আসলেও, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের এই ভূমিকা ভারতের জন্যই একটি বড় কূটনৈতিক বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি হয়তো বরাবরের মতো একটি প্রথাগত প্রেস রিলিজের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশা করেছিল, কিন্তু ঢাকা থেকে আসা ‘হার্ড মেসেজ’ সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
300*250 Ad-A-P1

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনারের জরুরি সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের শর্ত ও জটিলতাগুলো একেবারেই পরিষ্কার ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকার তরফ থেকে যে বার্তাগুলো ভারতের সামনে রাখা হয়েছে, তা মূলত বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলক:

বিজ্ঞাপন
300*250 Ad One-Green
  • মানবতাবিরোধী অপরাধীর রাজনৈতিক স্পেস বন্ধ ও প্রত্যাবর্তন: গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকে চরম অসম্মান করার শামিল। পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতির তোয়াক্কা না করে কীভাবে এমন সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হলো, ভারতীয় পক্ষ তার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। একইসঙ্গে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশ সরকারের হাতে হস্তান্তর করার দাবিটি এখন অত্যন্ত জোরালো।

  • ভারতীয় মাটি থেকে অপতৎপরতা রোধ: ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে দিল্লিকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিজ্ঞাপন
    728*90 Ad One-Y
  • সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ: সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর হত্যা এবং অবৈধ পুশইন পুরোপুরি ও চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

    বিজ্ঞাপন
    728*90 Ad One-P
  • গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন: দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত পানিবণ্টন সমস্যার সমাধানে, বিশেষ করে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন নিয়ে ভারতের অবস্থান ও মনোভাব দ্রুত পরিষ্কার করা জরুরি।

  • বিচারের মুখোমুখি করা: শহীদ ওসমান হাদীর অভিযুক্ত স্থানান্তরিত ‘হত্যাকারী’কে কালবিলম্ব না করে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এই মৌলিক ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে মোদি সরকার যতক্ষণ না তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দু দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া কঠিন। শুধু তা-ই নয়, এই অচলাবস্থা কাটানো না গেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন ভারত সফরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে—যা দিল্লির জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং তৎপরবর্তী পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট যে, ঢাকার এই অনড় ও স্পষ্ট অবস্থান নয়াদিল্লির কূটনৈতিক শিবিরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। বার্তাগুলো নিয়ে হাই কমিশনারের তড়িঘড়ি নয়াদিল্লি ফিরে যাওয়ার চিত্রই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ এখন আর আগের মতো নিষ্ক্রিয় কোনো প্রতিবেশী নয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান এবং জনআকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে। দিল্লি যদি সত্যিই বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তাকে গতানুগতিক প্রেস রিলিজের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ঢাকার উত্থাপিত দাবিগুলোর দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-be
ঢাকা ম্যাগাজিনের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মতামত থেকে আরও
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরে অর্জন

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরে অর্জন

৫ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশি টাকার আন্তর্জাতিকীকরণের নতুন অধ্যায়
টাকা ভস্ট্রো অ্যাকাউন্ট

বাংলাদেশি টাকার আন্তর্জাতিকীকরণের নতুন অধ্যায়

২ দিন আগে
পৃথিবী কি কেবল শক্তিধরদের খেলাঘর?

পৃথিবী কি কেবল শক্তিধরদের খেলাঘর?

২ সপ্তাহ আগে
গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল জরুরি

গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল জরুরি

২ সপ্তাহ আগে
জিয়ার বিএনপি থেকে এখনকার বিএনপি : কী বদলেছে

জিয়ার বিএনপি থেকে এখনকার বিএনপি : কী বদলেছে

৩ সপ্তাহ আগে
ভারতের ব্যর্থ কূটনীতি ও বাংলাদেশের বদলে যাওয়া বাস্তবতা

ভারতের ব্যর্থ কূটনীতি ও বাংলাদেশের বদলে যাওয়া বাস্তবতা

১ মাস আগে