২০২১ ব্যাচের এই পুলিশ কর্মকর্তা খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের উপ-কমান্ড্যান্ট পদে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ইনশাআল্লাহ-জাযাকাল্লাহ’ বলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বুশরা বানু সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে নিজের সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাযাকাল্লাহ’ শব্দগুলো ব্যবহার করেন। ভিডিওতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক প্রশিক্ষণ একাডেমির অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগ দেয়। সংগঠনটির অভিযোগ, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বুশরা বানু নিরপেক্ষতা বজায় রাখেননি এবং ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’-এর মতো জাতীয়তাবাদী সম্বোধন ব্যবহার করেননি।
আরও পড়ুন
অভিযোগের পরদিনই, ১৪ সেপ্টেম্বর, রাজ্য সরকার বদলির নির্দেশ জারি করে। এর পর থেকেই বদলির সিদ্ধান্তের সময় ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে খড়গপুরের নতুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসের কর্মকর্তা পার্থ ঘোষকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশিকায় আরও এক পুলিশ কর্মকর্তা সুভেন্দু মণ্ডলকেও বদলি করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে বিষয়টিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, অভিযোগের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলির সিদ্ধান্ত হওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।