শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষি খাতে সরবরাহ জোরদার হবে এবং শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিসিআইসি।
বিসিআইসির অধীনে বর্তমানে মোট সাতটি সার কারখানা রয়েছে—পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন, যা চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই অর্থবছরে টিএসপি ও ডিএপির চাহিদা ছিল যথাক্রমে ৭ লাখ ৫০ হাজার ও ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন; উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে। সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়ায় ২৩ হাজার টাকা, টিএসপিতে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা ও ডিএপিতে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে।
ভোলার প্রস্তাবিত কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় এবং পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় অন্য দুটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি; তবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।



