ইসলামে যে আমলের মধ্যে লোক দেখানো, আত্মপ্রচার বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে থাকে, তাকে ‘রিয়া’ বলা হয়। রিয়াযুক্ত কোনো আমল বাহ্যিকভাবে যতই ভালো হোক না কেন, আল্লাহর কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কোনো নেক আমলে যদি লোক দেখানোর প্রবণতা থাকে, আল্লাহ তা গ্রহণ করেন না। (সুনানে নাসাঈ: ৩১৪০)
আরেকটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসুল (সা.) জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন একজন আলেম, একজন দানশীল ব্যক্তি এবং একজন শহীদকে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে। তারা বাহ্যিকভাবে অনেক বড় আমল করলেও যদি তা মানুষের প্রশংসা অর্জনের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তবে তাদের সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। (সহিহ মুসলিম: ১৯০৫)
পক্ষান্তরে, আন্তরিক নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা অল্প আমলও তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। রাসুল (সা.) বলেছেন,
"তোমরা দ্বীনকে খাঁটি ও নির্ভেজাল করো; তাহলে অল্প আমলও তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।"
পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
"তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করে।"
— (সূরা আল-বাইয়্যিনাহ: ৫)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
"জেনে রাখো, বিশুদ্ধ ও একনিষ্ঠ ইবাদত একমাত্র আল্লাহরই জন্য।"
— (সূরা আজ-যুমার: ৩)
ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত হাদিস—
"সমস্ত আমলের ভিত্তি হলো নিয়ত। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।"
— (সহিহ বুখারি: ১)
অতএব, একজন মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রতিটি কাজ—ইবাদত, দান, শিক্ষা, পেশা কিংবা সামাজিক দায়িত্ব—শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা। যখন আমল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য করা হয়, তখন তা দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোরআনে সাহাবায়ে কেরামের এই গুণের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।"
— (সূরা আত-তাওবা: ১০০)
একজন মুমিনের জীবনের প্রকৃত সফলতা এখানেই—প্রতিটি কাজকে ইখলাসের সঙ্গে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করা।