সর্বশেষ

৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস জার্মানি, ভাঙতে পারে ২০১৯ সালের রেকর্ড

৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস জার্মানি, ভাঙতে পারে ২০১৯ সালের রেকর্ড
জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতপ্রধান দেশটিতে বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে, আর কোথাও কোথাও তা ৪১ ডিগ্রিও অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (২৭ জুন) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের নিচু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এমনটি হলে ২০১৯ সালের ২৫ জুন ডুইসবুর্গ শহরে রেকর্ড হওয়া ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে।

শীতপ্রধান হওয়ায় জার্মানির অধিকাংশ বাড়ি, স্কুল ও অফিসে ফ্যান বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থার ব্যবহার তুলনামূলক কম। ফলে হঠাৎ তীব্র গরমে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জার্মানির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এর চেয়ে বেশি গরম থাকলেও সেখানে মানুষ প্রস্তুত থাকে। কিন্তু জার্মানিতে এমন তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হওয়ায় তা অনেক বেশি অসহনীয় মনে হচ্ছে।

দাবদাহের কারণে অনেক এলাকায় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মঘণ্টা কমানো হয়েছে। অনেক মানুষ ঘরের বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন, আবার অনেকে সমুদ্র উপকূলে গিয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুন থেকে রাইন অঞ্চলে প্রতিদিনই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় টানা ১০ থেকে ১২ দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। রোববার এ তাপপ্রবাহ পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সোমবার উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শীতল বায়ু প্রবেশের ফলে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমে আগামী সপ্তাহে দেশের অধিকাংশ এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসতে পারে।

বিজ্ঞানীরা ইউরোপের এই চরম তাপপ্রবাহকে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন–এর গবেষণা বলছে, ৫০ বছর আগে একই ধরনের আবহাওয়ায় এত তীব্র তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। সে সময় একই পরিস্থিতিতে গড় তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকত।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের পর ইউরোপে বর্তমানের মতো চরম তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে যেসব রাতে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে না, এমন উষ্ণ রাতের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ১০০ গুণ।

বিজ্ঞানীদের মতে, শিল্পবিপ্লবের পর বিশ্বে গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলেও ইউরোপে তা বেড়েছে প্রায় ২.৫ ডিগ্রি। স্থলভাগ দ্রুত উষ্ণ হওয়া এবং আর্কটিক অঞ্চলের ত্বরান্বিত উষ্ণায়ন ইউরোপে তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকা ম্যাগাজিনের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
প্রবাস থেকে আরও
যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-জাইকা

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-জাইকা

৬ ঘণ্টা আগে
পরিমাণ-ওজনে কম দেওয়া বড় গুনাহ

পরিমাণ-ওজনে কম দেওয়া বড় গুনাহ

৭ ঘণ্টা আগে
জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়

৭ ঘণ্টা আগে
সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

সব কাজে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের আগ্রহ

৭ ঘণ্টা আগে
যেসব আমলে দ্রুত কবুল হতে পারে দোয়া

যেসব আমলে দ্রুত কবুল হতে পারে দোয়া

৭ ঘণ্টা আগে
এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেট বোর্ডে অনুপস্থিত ১,১২৭ পরীক্ষার্থী

এইচএসসির প্রথম দিনে সিলেট বোর্ডে অনুপস্থিত ১,১২৭ পরীক্ষার্থী

৭ ঘণ্টা আগে