ডিবি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করার পর গত কয়েক বছর তিনি রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। বুধবার (১৬ জুলাই) রাতে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি সেনাবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরদিন মোজাফফর ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে ভুয়া পরিচয়ে বসবাস, নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং পরে সেই পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেন। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের মাধ্যমে নিজের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।
ডিবির তথ্যমতে, ১৯৯৮ সালে তিনি গোপনে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন করে বসবাস করেন। সম্প্রতি তিনি রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে শ্বশুরের একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত বিষয় সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বাংলাদেশ: অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফরসহ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গিয়ে নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী সামরিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এসব বর্ণনা বইটির লেখকের বিবরণ এবং ঐতিহাসিক সূত্রের অংশ; এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।