প্রধান বিষয়বস্তুতে যান
সর্বশেষ
মহাপরিচালককে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ অডিও প্রচারের প্রতিবাদ বাংলাদেশ রেলওয়ের ● পাহাড়ে কফি-কাজুবাদাম চাষ ও আধুনিক শিক্ষায় জোর সরকারের ● চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বিদায়ী সাক্ষাৎ ● ২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত ● বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিল পাকিস্তান ● বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে: হুমায়ুন কবির ● দেশের সব মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ ● ন্যায়বিচার নিয়েই আদালত থেকে যাব: তানজিন তিশা ● অনিবন্ধিত অনলাইন ও নিউজ পেজের বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার ● সৌদি আরব থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসী বহিষ্কার, বাংলাদেশি কত ●
দিল্লির ছক ও শেখ হাসিনার প্রচারণানির্ভর রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীর হুমকি ও পথরেখা

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামীর হুমকি ও পথরেখা
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক প্রেস কনফারেন্স দেখলাম। অনেকেই বক্তব্যের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করছেন। কিন্তু আমার কাছে পুরো প্রেস কনফারেন্সটি কয়েকটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। এগুলোকে আমি আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হিসেবেই তুলে ধরছি।

১. শেখ হাসিনা বদলাননি, তাঁর রাজনীতিও বদলায়নি।

বিজ্ঞাপন
300*250 Ad-A-P1

প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়েছে, সেটি হলো—শেখ হাসিনা এখনও শেখ হাসিনাই আছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, ভাষা এবং প্রতিপক্ষকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের বক্তব্যেও নতুন কিছু দেখিনি। তবে আন্তর্জাতিক মহলের জন্য কথা বলার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন নেতার বক্তব্যে তুলনামূলক সংযত হওয়ার চেষ্টা চোখে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন
300*250 Ad One-Green

২. প্রাণহানির বিতর্ককে সংখ্যার বিতর্কে নামিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছে।

আমার কাছে শেখ হাসিনার ছেলের বক্তব্য আগের চেয়ে আরও সরাসরি মনে হয়েছে। বক্তব্যের সারমর্ম ছিল—প্রাণহানির বিতর্কটি যেন মূলত সংখ্যার বিতর্ক। আমার দৃষ্টিতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকেত। কারণ এতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে "কতজন", কিন্তু "কেন", "কীভাবে" এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহির প্রশ্নটি পেছনে চলে যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই আমার কাছে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-Y

৩. দেশের বাইরে থেকেও রাজনৈতিক লড়াই থেমে নেই।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-P

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম থেমে নেই। বরং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি তাঁর বক্তব্য বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দিতে পারছেন।

আমার কাছে এখানেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যদি কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের সমর্থন বা কূটনৈতিক সুবিধা থাকে, তাহলে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, এই বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

৪. দেশের ভেতরে সংবাদ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও বিদেশে বয়ান থামানো যায় না।

বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক নেতার প্রচার সীমিত করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সেটি সম্ভব নয়।

আমার মতে, শেখ হাসিনার বক্তব্য যদি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারিত হয়, তাহলে তার জবাবও একই পরিসরে দিতে হবে। শুধু দেশীয় গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করা যায় না।

ইংরেজি ভাষায়, আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্ট, গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং কার্যকর জনকূটনীতি ছাড়া এই লড়াইয়ে সফল হওয়া কঠিন। যদি এটি না করা হয়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে এক ধরনের বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠিত হবে, যা পরে বদলানো কঠিন হয়ে যাবে।

৫. পুরোনো রাজনৈতিক বয়ানেরই পুনরাবৃত্তি দেখছি।

আমার পর্যবেক্ষণে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলে মৌলিক নতুনত্ব নেই। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মুক্তিযুদ্ধ এবং আদর্শিক বিভাজনের পুরোনো বয়ানই আবারও সামনে আসবে বলে মনে হচ্ছে।

আজ হয়তো আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ছাত্রনেতারা। কিন্তু আমার ধারণা, খুব বেশি সময় যাবে না—একই ধরনের বয়ানের লক্ষ্যবস্তু হবেন তারেক রহমান, শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলামসহ বৃহত্তর বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এটি আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; ভবিষ্যৎই এর সত্যতা যাচাই করবে।

৬. বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা—যোগাযোগ।

বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, আমার মতে, তাদের যোগাযোগ কৌশল। অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয়েছে, তাদের ডিফল্ট নীতি যেন "নো কমিউনিকেশন"।

তবে ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক নোটটি ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রকে আত্মবিশ্বাসী ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরতে দেখা গেছে। আমার জানা মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে আলোচিত কূটনৈতিক নোটগুলোর একটি।

আমার প্রত্যাশা, এই অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্বও শিক্ষা নেবে। বিশেষ করে তারেক রহমান যদি বিএনপিকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে দলকে একটি সুস্পষ্ট মধ্য-ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং বৃহত্তর সরকারবিরোধী মধ্য ও ডানপন্থী শক্তির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বোঝেন না বা ভিন্ন স্বার্থে পরিচালিত হন—এমন প্রভাব থেকেও দলকে বের করে আনতে হবে।

সবশেষে...

আমার কাছে এই প্রেস কনফারেন্সের সবচেয়ে বড় শিক্ষা একটি—বাংলাদেশের আগামী রাজনৈতিক লড়াই শুধু ভোটের মাঠে হবে না।

এই লড়াই হবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, গবেষণা প্রতিবেদনে, থিংক ট্যাঙ্কে এবং বৈশ্বিক জনমতের অঙ্গনে।

যে রাজনৈতিক শক্তি এই তথ্যযুদ্ধকে গুরুত্ব দেবে, আন্তর্জাতিক ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তার অবস্থানই শক্তিশালী হবে।

বাকি সবাই শুধু দেশের ভেতরের রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত থাকবে, আর বাইরের পৃথিবীতে অন্য কেউ তাদের গল্প লিখে দেবে।

বিজ্ঞাপন
728*90 Ad One-be
ঢাকা ম্যাগাজিনের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
মতামত থেকে আরও
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরে অর্জন

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসঙ্ঘ সফরে অর্জন

৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশি টাকার আন্তর্জাতিকীকরণের নতুন অধ্যায়
টাকা ভস্ট্রো অ্যাকাউন্ট

বাংলাদেশি টাকার আন্তর্জাতিকীকরণের নতুন অধ্যায়

২ দিন আগে
পৃথিবী কি কেবল শক্তিধরদের খেলাঘর?

পৃথিবী কি কেবল শক্তিধরদের খেলাঘর?

২ সপ্তাহ আগে
গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল জরুরি

গ্যাস–সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল জরুরি

২ সপ্তাহ আগে
জিয়ার বিএনপি থেকে এখনকার বিএনপি : কী বদলেছে

জিয়ার বিএনপি থেকে এখনকার বিএনপি : কী বদলেছে

৩ সপ্তাহ আগে
ভারতের ব্যর্থ কূটনীতি ও বাংলাদেশের বদলে যাওয়া বাস্তবতা

ভারতের ব্যর্থ কূটনীতি ও বাংলাদেশের বদলে যাওয়া বাস্তবতা

১ মাস আগে