বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর একটি দল তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গৌরীপুর থেকে রিপন মিয়াকে আটক করে। র্যাবের সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান রিপন।
নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, ধর্ষণের ঘটনায় সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে। সেখানে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও এলাকাছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সালিসের বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নেত্রকোণা মডেল থানার (তদন্ত) পরিদর্শক মিহির রঞ্জন দেব জানান, র্যাব রিপন মিয়াকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করেছে এবং সেখান থেকে তাকে নেত্রকোণায় আনা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় রিপন জোর করে মেয়েটিকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সময় তার বাবা-মা দুজনই বাড়ির বাইরে কাজে ছিলেন। মেয়েটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন।
পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও নির্মাণ করে পরিচিতি পান। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—এই সংলাপভিত্তিক ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয় হন। ২০১৯ সালে খোলা তার ‘রিপন মিয়া’ নামের ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।




