শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিবাদী সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাব এই সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, সম্প্রতি দিল্লির দক্ষিণ এশিয়ান ফরেন জার্নালিস্ট ক্লাবের অনুষ্ঠানে এক ‘পলাতক ফ্যাসিস্ট’ বক্তব্য দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপি ও সরকার উভয়েই প্রতিবাদ জানালেও ভারত বলেছে, এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের আয়োজন—যাতে তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
রিজভী প্রশ্ন তোলেন, ‘সরকারের অনুমতি ছাড়া দিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কি যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে পারে? সেখানে একজন পলাতক ফ্যাসিস্ট বক্তব্য দেবেন এবং সরকার বলবে, এখানে আমাদের কিছু করার নেই—এটা কি গ্রহণযোগ্য?’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শেখ হাসিনার আমলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার জন্য লন্ডন থেকে লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে আসতে পারেননি এবং দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনেরও অনুমতি পাননি। তিনি বলেন, ‘সেই সময় যদি বিদেশি ব্যক্তির ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে, তাহলে এখন দিল্লিতে একজন পলাতক ফ্যাসিস্টের বক্তৃতার ক্ষেত্রে কেন বলা হচ্ছে—সরকারের কিছু করার নেই?’ ভারতের এই অবস্থানকে ‘দ্বৈত’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
রিজভী বলেন, বিএনপি সব সময় বলে এসেছে, বিদেশে বাংলাদেশের বন্ধু আছে, কিন্তু কারও কাছে প্রভুত্ব মেনে নেওয়ার প্রশ্ন নেই। সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।
জুলাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; এতে ১৫-২০ রিকশাচালক ও ৯৫ শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এটি ছিল ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি, যা আগ্রাসী ও ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধকে প্রতিফলিত করে।
সম্প্রতি জামায়াত আমিরের বাসায় আয়োজিত ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের ছবি থাকলেও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের কোনো ছবি বা বক্তব্য না থাকায় তা রহস্যজনক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গঠন ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার যে বক্তব্য ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি কি তারই সম্প্রসারণ? তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সার্বভৌমত্ব—কোনোটিকেই খণ্ডিতভাবে দেখা যাবে না।





