শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেটেরিনারি খাতের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। একসময় এ বিষয়ে আগ্রহ কম থাকলেও বিজ্ঞান ও গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও কৃষি খাত দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন জরুরি। পশুপাখিকে সুস্থ রাখা, রোগ প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই খাতে যত বেশি গবেষণা হবে, তত বেশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।’
ভেটেরিনারি হাসপাতাল সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে এ ধরনের হাসপাতাল মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। দেশের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে সেবা সহজলভ্য হয়।
ভেটেরিনারিয়ানদের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
সম্মেলনে ফিজিওলি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুদ্দিনকে ‘বার্ষিক লেকচার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রবিন এল্ডার্স মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’ প্রতিপাদ্যে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬০০ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান অংশ নিচ্ছেন। মূল দুই দিনে মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে—১১৬টি মৌখিক ও ২০২টি পোস্টার উপস্থাপনা।





